ফেক বিকাশ স্ক্রিনশট ও ভুয়া TrxID: অনলাইন শপের বিক্রেতা কীভাবে বাঁচবেন
অনলাইন শপে ঠকার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো, বিক্রেতা শুধু স্ক্রিনশট বা গ্রাহকের লিখে দেওয়া TrxID দেখে পণ্য ছেড়ে দেন। স্ক্রিনশট এডিট করা যায়, TrxID যে কেউ টাইপ করতে পারে। নিরাপদ থাকার উপায় হলো পেমেন্ট আপনার নিজের ফোনের আসল মেসেজ বা ওয়ালেট অ্যাপে যাচাই করা, আর অঙ্ক ও সময় ঠিক ঠিক মেলানো।
কী কী কৌশলে ঠকানোর চেষ্টা হতে পারে?
নিচের কৌশলগুলো সাধারণভাবে শোনা যায়। এগুলো কত বেশি ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই। শুধু জেনে রাখলে সতর্ক থাকা সহজ হয়।
- এডিট করা স্ক্রিনশট। আসল পেমেন্টের স্ক্রিনশটে অঙ্ক, নম্বর বা তারিখ বদলে দেওয়া, কিংবা পুরো পেমেন্ট স্ক্রিনই বানিয়ে ফেলা।
- পুরোনো TrxID আবার ব্যবহার। আগের কোনো সত্যিকারের পেমেন্টের কোড নতুন অর্ডারে দেখানো।
- কম অঙ্ক পাঠানো। ৫০০ টাকার অর্ডারে হয়তো ৫০ টাকা পাঠিয়ে বলা হলো ‘পাঠিয়ে দিয়েছি’।
- অন্য নম্বরে পাঠানো। আপনার নম্বরে নয়, একই রকম দেখতে আরেকটা নম্বরে টাকা গেছে, কিন্তু স্ক্রিনশটে বিষয়টা চোখে পড়ে না।
- তাড়া দেওয়া। ‘টাকা কেটে গেছে, তাড়াতাড়ি পাঠান’ বলে চাপ দেওয়া, যাতে আপনি যাচাই করার সময় না পান।
বিক্রেতার জন্য চেকলিস্ট
পণ্য পাঠানোর আগে এই ধাপগুলো মেনে চলুন:
- যাচাই করুন নিজের অ্যাপে বা নিজের এসএমএসে। গ্রাহকের পাঠানো ছবিতে নয়।
- টাকার অঙ্ক অর্ডারের অঙ্কের সঙ্গে ঠিক ঠিক মেলান। অল্প কম হলেও পেমেন্ট পুরো হয়নি।
- সময় দেখুন। পেমেন্টটা এই অর্ডারের সময়ের কাছাকাছি হয়েছে কি না।
- এক TrxID, এক অর্ডার। যে কোড একবার কোনো অর্ডারে ব্যবহার হয়েছে, তা আবার গ্রহণ করবেন না। প্রতিটা TrxID অর্ডারের পাশে লিখে রাখুন।
- প্রতিটা অর্ডারে আলাদা একটা রেফারেন্স কোড দিন এবং গ্রাহককে সেটা ওয়ালেট অ্যাপের রেফারেন্স ঘরে লিখতে বলুন, যদি অ্যাপে এমন ঘর থাকে।
- বড় অঙ্কের অর্ডারে ওয়ালেট অ্যাপে ব্যালান্স মিলিয়ে নিন। মেসেজ এসেছে বলেই ব্যালান্স বেড়েছে, এমন নাও হতে পারে।
- সন্দেহ থাকলে পণ্য আটকে রাখুন। ভদ্রভাবে গ্রাহককে বলুন, মেসেজ বা ব্যালান্সে পেমেন্ট দেখা গেলেই পণ্য পাঠানো হবে।
রেফারেন্স কোড কীভাবে সাহায্য করে?
TrxID গ্রাহক নিজে থেকে লেখেন, আর সেটা বানানো হতে পারে। কিন্তু রেফারেন্স কোড আপনার দেওয়া। ধরুন অর্ডারের কোড QP-7F3K, আর গ্রাহক সেটা সেন্ড মানির রেফারেন্স ঘরে লিখেছেন। তাহলে আপনার ফোনের আসল পেমেন্ট মেসেজেই ওই কোড দেখা যাবে। ফলে কোনটা কোন অর্ডারের পেমেন্ট, তা আন্দাজ করতে হয় না। কোডটা আলাদা অর্ডারের জন্য আলাদা হওয়ায় একটা পেমেন্ট দিয়ে দুটো অর্ডার ছাড়ানোও কঠিন হয়ে যায়।
অটোমেটিক এসএমএস মেলানো কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
QRPayBD আপনার দোকানের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আসা পেমেন্টের এসএমএস Collector অ্যাপ দিয়ে পড়ে। রেফারেন্স বা TrxID এবং ঠিক টাকার অঙ্ক সেই আসল মেসেজের সঙ্গে না মিললে অর্ডার কনফার্ম হয় না। তাই বানানো TrxID বা এডিট করা স্ক্রিনশট দিয়ে অর্ডার পেইড হয় না, কারণ মেলার মতো কোনো মেসেজ আসে না। একটা TrxID একবারই একটা অর্ডার কনফার্ম করতে পারে। অঙ্ক ভুল হলে অর্ডার নিজে থেকে কনফার্ম হয় না। যে পেমেন্ট মেলে না, সেটা ইনবক্সে জমা থাকে, আপনি দেখে হাতে মিলিয়ে নিতে পারেন।
এর সীমা কোথায়?
এসএমএস-ভিত্তিক যাচাই নিখুঁত নয়, আর এটা অফিসিয়াল ওয়ালেট API নয়।
- এসএমএসের সেন্ডারের নাম জাল করা সম্ভব। আসল ওয়ালেট মেসেজ সাধারণত একটা নামের সেন্ডার থেকে আসে, সাধারণ ফোন নম্বর থেকে নয়। তবে শুধু নাম দেখেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না।
- মেসেজ দেরিতে আসতে পারে, মিস হতে পারে বা অন্যভাবে লেখা হতে পারে।
- দোকানের ফোন বন্ধ বা অফলাইন থাকলে কনফার্মেশন দেরি হয়।
- বেশি টাকার বা ফেরত নেওয়া যায় না এমন পণ্যের ক্ষেত্রে ওয়ালেট অ্যাপে ব্যালান্স নিজে দেখে নিন।
বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মেসেজ রিডার আসল পেমেন্টে যাচাই করা হয়েছে; রকেট ও ব্যাংক পরিকল্পনায় আছে। তবু কিছু পেমেন্ট হাতে মিলিয়ে নিতে হতে পারে।
সবশেষে
কোনো একটা পদ্ধতিই সব ঝুঁকি দূর করে না। কাজে লাগে কয়েকটা অভ্যাস একসঙ্গে: নিজের ফোনে যাচাই, ঠিক অঙ্ক, এক TrxID এক অর্ডার, রেফারেন্স কোড, আর বড় অঙ্কে ব্যালান্স দেখা। স্ক্রিনশট বড়জোর একটা ইঙ্গিত, প্রমাণ নয়।
রেফারেন্স কোড আর এসএমএস মেলানো নিজের শপে চালু করতে চাইলে গাইডটা দেখে নিন।